অনিন্দিতা চক্রবর্তী
ভালোবাসা শব্দটা চার অক্ষরের।কিন্তু কোনো অক্ষর,শব্দ,কথা ছাড়াই এই সুন্দর অনুভুতিটা খুব সহজেই বুঝিয়ে দেওয়া যায় মনের মানুষটিকে।প্রেমটা বোধ হয় এমনই হয়।
ভালোবাসাতে মনের কথাই যথেষ্ট।দুটো মনের রং এক হয়ে পুরো দুনিয়াটাকেই রঙিন করে দেয়।এমনি এক প্রেম বংশী আর নূপুরের ।
তারা কথা বলতে পারে না, কানেও শুনতে পায়না। তাদের মাঝে বয়ে চলে সুরের নদী। তবুও বংশীর সুরে নূপুরের ছন্দ কিভাবে যেন পৌঁছে যায় দর্শকদের কাছে। এই নূপুর আর বংশীকেই পর্দায় আনছেন পরিচালক রণদীপ সরকার। not a dirty film এর পর দ্বিতীয় ছবি। আর দ্বিতীয় ছবিতেই বেশ অন্য কিছু করে দেখানর চেষ্টা। যান্ত্রিক ভালোবাসা থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা সহজ সরল ভালোবাসার গল্পই বলে এই ছবি।
নূপুর ছবির গল্প এক আদ্যন্ত গ্রামের গল্প। এখানে সভ্যতা এখনও মাটিতে জলে গাছে। শহরের ঘোলাটে আকাশ এখানে আশ্চর্য রূপকথার মতো নীল । রাধাকৃষ্ণর চিরন্তন প্রেমকাহিনীর এক আধুনিক আখ্যান পাওয়া যায় এই ছবিতে। কৃষ্ণর বাঁশি শুনে রাধা যখন আসত ছুটে, রাধার পায়ের নূপুরের শব্দ শুনে কৃষ্ণের বাঁশির সুর যেত বদলে। এই ছবিতেও পুরো গল্পটাই একটা নূপুরকে কেন্দ্র করে। সেক্ষেত্রে নামকরণ যথার্থ।
গল্পের কারণে ছবির বেশির ভাগটাই নির্বাক। অনেকটাই অংশ জুড়ে রয়েছে কবিতা। আবার রয়েছে জয়দেবের গীতগোবিন্দর ছোঁয়াও, এসেছে শুক ও সারি প্রসঙ্গ । রাধাকৃষ্ণর প্রেম-মিলন-বিচ্ছেদের গল্পের মতো এখানেও অবধারিত ভাবে ফিরে এসেছে সেই গল্প। কিন্তু নূপুর র বংশীর এই প্রেম কি বেঁচে থাকতে পারবে এই জটিল সমাজে? সেটা না হয় তোলা থাক ছবির পর্দাতে। এক গভীর নির্বাক ভালোবাসার ছবি নূপুর। সহজ সরল গল্প, গ্রাম্য পরিবেশ, ঝকঝকে ক্যামেরা, সুন্দর সম্পাদনা সবটাই ভীষণ ভালো লাগে। বেশ কিছুটা অন্যরকম, ভিন্ন স্বাদ পেতে অবশ্যই দেখে আসুন। এই ভালোবাসার গল্প মন ছুঁয়ে যায়।





No comments:
Post a Comment